পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘মিরাকল’-এর আশায় বাংলাদেশ, এরই মাঝে ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে বড় দুঃসংবাদ

পাকিস্তানের কাছে হার হোক বা সেমিফাইনালের কঠিন অঙ্ক—কোনো কিছুতেই আশা ছাড়ছে না বাংলাদেশ দল। বরং পারফরম্যান্সে উন্নতির খিদে আর ‘মিরাকল’ বা অলৌকিকের আশায় বুক বাঁধছে টাইগাররা। ভারতের বিরুদ্ধে হারের পর মাত্র এক দিনের বিশ্রাম। এরপরই শুক্রবার এক বিশাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ঘাম ঝরিয়েছে গোটা দল। গাছপালায় ঘেরা ছবির মতো সুন্দর এই চত্বরের এক দিকে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও বিগ ব্যাশের খেলা চলে নিয়মিত, অন্য দিকে নেটের ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে প্রস্তুতির আদর্শ পরিবেশ। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে বড় সুযোগ হাতছাড়া হলেও দলের অন্দরমহলে হতাশার চেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জেদই বেশি। জটিল সমীকরণের বেড়াজালে এখনও আশার আলো দেখছে দল—যদি অলৌকিক কিছু ঘটেই যায়!

সাধারণত লম্বা সফরের শেষ পর্বে বাংলাদেশের ভেঙে পড়ার বা মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটার ইতিহাস বহু পুরনো। মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে তখন দেশে ফেরার তাড়া বা কেনাকাটায় মন চলে যায় অনেকের। তবে এ বারের ছবিটা ভিন্ন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, টিম ম্যানেজমেন্ট এখনই হাল ছাড়তে নারাজ। দলের সঙ্গে থাকা বিসিবি ডিরেক্টর জালাল ইউনুস দলের মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছেন। মিটিংয়ে কোচ শ্রীরাম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাড়ি ফেরার চিন্তা বা ফ্লাইটের তারিখ নিয়ে এখন ভাবা যাবে না। ৭ তারিখেই ফিরতে হবে—এমনটা যেন কেউ ধরে না নেয়। শেষ ম্যাচটি জেতার জন্য নিজেদের উজাড় করে দিতে হবে।

অলৌকিক সমীকরণ ও তাসকিনের রণকৌশল

রবিবারের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে এখন গোটা দল। দিনের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডস যদি দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে কোনো অঘটন ঘটাতে পারে, তবে সমীকরণ কিছুটা বাংলাদেশের পক্ষে আসতে পারে। এরপর পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই সেমিফাইনাল। জালাল ইউনুসের কথায়, “এই গ্রুপে সব ম্যাচই রোমাঞ্চকর হয়েছে। এখনও যে কোনো কিছু হতে পারে, এমনকি মিরাকলও। মূল লক্ষ্য শেষ ম্যাচটায় একই স্পিরিট নিয়ে খেলা।” তবে সেমিফাইনাল নিয়ে সরাসরি প্রশ্নে তিনি কিছুটা সতর্ক। তাঁর মতে, অনেক ‘যদি-কিন্তু’র বিষয় থাকলেও দলের পাখির চোখ এখন শুধুই জয়।

স্বপ্নের জাল বোনা যে দলের ভেতরে ভালোভাবেই চলছে, তা বোঝা গেল ক্রিকেটারদের মানসিকতায়। টিভিতে বা স্কোরে অন্য দলের ম্যাচগুলোর ওপরও কড়া নজর রাখছে বাংলাদেশ শিবির। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয় বাংলাদেশ দলকে বেশ নাড়া দিয়েছে। যদিও সব কিছু নিজেদের হাতে নেই, তবু আশা বেঁচে আছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, নেদারল্যান্ডস যদি অঘটন ঘটায়ও, বাংলাদেশ কি পারবে পাকিস্তানকে হারাতে? পরিসংখ্যানে পাকিস্তান যোজন যোজন এগিয়ে। মুখোমুখি ১৭ ম্যাচে পাকিস্তান জিতেছে ১৫টিতেই। শক্তিমত্তার বিচারে বাংলাদেশ পরিষ্কার ‘আন্ডারডগ’ হিসেবেই মাঠে নামবে। পেসার তাসকিন আহমেদ অবশ্য এই বাস্তবতা মেনে নিয়েও আশাবাদী। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টিতে আগে থেকে কিছু বলা কঠিন। এক ওভারেই মোমেন্টাম বদলে যেতে পারে। বোলাররা যদি প্রতিপক্ষকে ১৫০-১৬০ রানের মধ্যে আটকাতে পারে কিংবা ব্যাটাররা ভালো স্কোর গড়ে ডিফেন্ড করতে পারে—তবে জয় অসম্ভব নয়।

২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি ও বাংলাদেশের বহিষ্কার

মাঠের ক্রিকেটে যখন এমন আশা-নিরাশার দোলাচল, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়সূচি ও ফরম্যাট ঘোষণা করেছে, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে রীতিমতো বজ্রপাতের মতো। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে চলা এই মেগা ইভেন্ট চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত। মোট ৫৪টি ম্যাচের এই আসরে দল সংখ্যা ২০টিই থাকছে, তবে সেখানে নেই বাংলাদেশ।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে ভারত সফরে আপত্তি তোলায় এবং এ নিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় আইসিসি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কারের কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। ২০টি দলকে পাঁচটি করে মোট চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে।

গ্রুপ বিন্যাস

  • গ্রুপ এ: ভারত, পাকিস্তান, আমেরিকা (ইউএসএ), নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়া।

  • গ্রুপ বি: অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবোয়ে, ওমান।

  • গ্রুপ সি: ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, স্কটল্যান্ড, নেপাল, ইতালি।

  • গ্রুপ ডি: নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই), কানাডা।

ফরম্যাট ও ভেন্যু

টুর্নামেন্টটি দুটি গ্রুপ পর্ব এবং নকআউট রাউন্ডে (সেমিফাইনাল ও ফাইনাল) বিভক্ত থাকবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল ‘সুপার এইট’ পর্বে উঠবে। সেখানে দলগুলোকে আবার দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে এবং সেরা পারফর্মাররা সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। ভারতের পাঁচটি এবং শ্রীলঙ্কার তিনটি স্টেডিয়ামে ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে।

  • ভারতের ভেন্যু: অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম (দিল্লি), ইডেন গার্ডেন্স (কলকাতা), এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়াম (চেন্নাই), নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম (আহমেদাবাদ) এবং ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম (মুম্বাই)।

  • শ্রীলঙ্কার ভেন্যু: আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম (কলম্বো), পাল্লেকেলে ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম (ক্যান্ডি) এবং সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি, কলম্বো)।

সেমিফাইনালে ভারত উঠলে তাদের খেলা হবে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে। অন্যদিকে পাকিস্তান শেষ চারে উঠলে তারা কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে খেলবে।

ম্যাচ শিডিউলের একঝলক

৭ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নেদারল্যান্ডস বনাম পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের দশম আসরের। একই দিনে কলকাতায় লড়বে স্কটল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং মুম্বাইয়ে মুখোমুখি হবে ভারত ও আমেরিকা। ৮ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে আফগানিস্তান লড়বে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, মুম্বাইয়ে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ নেপাল এবং কলম্বোতে শ্রীলঙ্কা খেলবে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে। বহু প্রতীক্ষিত ফাইনালটি অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ।