আল-রিয়াদের বিপক্ষে রোনালদোর রহস্যজনক অনুপস্থিতি ও ওল্ড ট্রাফোর্ডের সেই পুরোনো ক্ষত

ফুটবল বিশ্বের সব আলো যেন সবসময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ওপরই থাকে। বয়স ৪০ পেরিয়েছে, তবুও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সেই পর্তুগিজ মহাতারকাই। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসেও ১০০০ গোলের জাদুকরী মাইলফলকের দিকে ছুটছেন তিনি। তবে এই রেকর্ডের পেছনে ছোটার পথেই হঠাৎ এক বড়সড় ধাক্কা খেল আল-নাসর। সৌদি প্রো লিগে আল-রিয়াদের বিপক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামছেন না রোনালদো। ফুটবল দুনিয়ায় তুমুল আলোচনার জন্ম দেওয়া এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন ফ্যাব্রিজিও রোমানো।

চোট নেই, তবুও দলের বাইরে

আল-নাসরের হয়ে এই মৌসুমে রীতিমতো অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন রোনালদো। ২২ ম্যাচে ১৮ গোল করার পাশাপাশি করিয়েছেন আরও ৩টি। ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা এখন ৯৬১, অর্থাৎ হাজার গোলের ইতিহাস গড়তে প্রয়োজন আর মাত্র ৩৯টি গোল। লিগ টেবিলে আল-হিলালের চেয়ে মাত্র ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে তাঁর দল। এমন উত্তেজনাকর মুহূর্তে দলের সেরা তারকার অনুপস্থিতি ভক্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, রোনালদোর এই অনুপস্থিতির কোনো স্পষ্ট কারণ জানা যায়নি। নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাঁর কোনো চোট নেই। এমনকি ফিটনেস বা শারীরিক ধকল নিয়েও কোনো সমস্যা নেই। পুরোপুরি সুস্থ থাকার পরও কেন তিনি দলের বাইরে, সেই রহস্যই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ফুটবল পাড়ায়।

স্মৃতির পাতায় সেই বিতর্কিত অধ্যায়

রোনালদোর এমন আচমকা দলের বাইরে থাকা বা মাঠের বাইরের ঘটনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। আল-রিয়াদের বিপক্ষে এই অনুপস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে কয়েক বছর আগের ওল্ড ট্রাফোর্ডের সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কথা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকাকালীন এক বুধবার রাতে টটেনহ্যামের বিপক্ষে ঘটেছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। ম্যাচের তখন ৮৯ মিনিট, ইউনাইটেড ২-০ গোলে এগিয়ে। কোচ এরিক টেন হাগ চেয়েছিলেন রোনালদোকে বদলি হিসেবে নামাতে। কিন্তু ডাগআউটে বসে থাকা ক্ষুব্ধ রোনালদো কোচের সেই নির্দেশ অমান্য করেন। শুধু তাই নয়, ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই মেজাজ হারিয়ে টানেল দিয়ে বেরিয়ে যান তিনি।

৩৭ বছর বয়সী রোনালদোর এমন আচরণে সেদিন যারপরনাই বিরক্ত হয়েছিলেন টেন হাগ। মৌসুমের শুরু থেকেই কোচের পরিকল্পনায় জায়গা পেতে সংগ্রাম করছিলেন তিনি। ওই ঘটনার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে সব মহলে। বিষয়টি এতটাই গুরুতর ছিল যে, ওল্ড ট্রাফোর্ড কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ম্যাচে চেলসির বিপক্ষে স্কোয়াড থেকে নিষিদ্ধ করে রোনালদোকে।

কোচের কঠোর অবস্থান ও অনুশোচনা

সে সময় সংবাদ সম্মেলনে টেন হাগের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, রোনালদো কি সত্যিই বদলি হিসেবে নামতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন? উত্তরে কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “হ্যাঁ, ঘটনাটি সত্য।” ডাচ এই কোচ তখন দলের শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়ে বলেছিলেন, “আমি কোচ, এখানকার সংস্কৃতি ও মানদণ্ড ঠিক রাখা আমার দায়িত্ব। দলে আমাদের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম আছে এবং তা নিয়ন্ত্রণ আমাকেই করতে হবে।”

টেন হাগ আরও মনে করিয়ে দেন যে, প্রাক-মৌসুমেও রোনালদো একবার ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই মাঠ ছেড়েছিলেন। কোচের মতে, ফুটবল একটি দলীয় খেলা এবং এখানে ব্যক্তিগত আবেগের চেয়ে দলের নিয়ম অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদিও নিজের ভুল বুঝতে পেরে রোনালদো পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, উত্তপ্ত মুহূর্তে তিনি নিজেকে সামলাতে পারেননি। সেই ঘটনার রেশ কেটেছে অনেক আগেই, তবে আল-রিয়াদের বিপক্ষে রোনালদোর বর্তমান রহস্যজনক অনুপস্থিতি আবারও প্রমাণ করল, মাঠের খেলার পাশাপাশি মাঠের বাইরের নাটকীয়তায় রোনালদো সবসময়ই সংবাদের শিরোনাম।