প্রকৃতির অনন্য উপহার খেজুর কেবল মিষ্টির প্রাকৃতিক উৎসই নয়, এর রয়েছে বহুমুখী ব্যবহার। বাজারে নানা জাতের খেজুর পাওয়া যায় যা সরাসরি খাওয়া ছাড়াও সালাদ, শরবত কিংবা ওটমিলের সঙ্গে মিশিয়ে দিব্যি খাওয়া যায়। তবে খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক তথ্যানুসারে, এই সুস্বাদু ফলের যেমন ইতিবাচক দিক আছে, তেমনি অতিরিক্ত গ্রহণে রয়েছে কিছু বিপত্তিও।
খেজুরের পুষ্টি উপাদান ও শরীরের ওপর প্রভাব
খেজুরে থাকে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ভোজ্য আঁশ। এই আঁশ শরীরের ‘এলডিএল’ বা খারাপ কোলেস্টেরলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তা রক্তে মিশে যাওয়া প্রতিরোধ করে। ফলে রক্তনালীর দেয়ালে ফ্যাটি লিপিড জমার সুযোগ পায় না। এছাড়াও খেজুরে ‘ক্যারোটিনয়েড’, ‘পলিফেনলস’ এবং ‘অ্যান্থোসায়ানিনস’-এর মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে এই উপাদানগুলো থাকলে শরীর দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হয়। বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ভোজ্য আঁশ বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
পাশাপাশি খেজুরে রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি-এর মতো অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। পুষ্টিবিদদের মতে, মানুষ সাধারণত এই চারটি উপাদানের ঘাটতিতে বেশি ভোগে। মাত্র চারটি খেজুর থেকেই দৈনিক চাহিদার ২৭ শতাংশ ভোজ্য আঁশ এবং ২০ শতাংশ পটাশিয়াম পাওয়া সম্ভব, যা শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়ক।
ক্যালরি সতর্কতা ও ওজন নিয়ন্ত্রণ
খেজুরের পুষ্টিগুণের কথা শুনে যদি কেউ সকাল-বিকাল দেদারসে খেজুর খাওয়া শুরু করেন, তবে হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ মাত্র চারটি বা ১০০ গ্রাম খেজুরেই প্রায় ২৭৭ ক্যালরি থাকে। অত্যন্ত মিষ্টি এই শুকনো ফলটি অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ওজন বৃদ্ধির সমূহ সম্ভাবনা থাকে। তাই ডায়েট চার্টে খেজুর যোগ করার আগে এর পরিমাণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
তাজা বনাম ফ্রোজেন ফল: আধুনিক বাজারদর ও উপযোগিতা
খেজুরের মতো শুকনো ফলের পাশাপাশি আমাদের দৈনন্দিন কেনাকাটায় তাজা ফলের কদর সবচেয়ে বেশি। কৃষকের বাজার থেকে কেনা রসালো স্ট্রবেরি বা মচমচে আপেলের স্বাদ অতুলনীয়। তবে আধুনিক জীবনযাত্রায় এবং আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে ফ্রোজেন বা হিমায়িত ফলের গুরুত্বও কম নয়। অনেক সময় তাজা ফলের চেয়ে ফ্রোজেন ফল বেশি সাশ্রয়ী ও কার্যকর হতে পারে।
‘দ্য ফ্রুটগাইজ’-এর সিইও এরিন মিটেলস্ট্যাডের মতে, ফল সংগ্রহের পরপরই যখন তা ফ্রোজেন করা হয়, তখন এর স্বাদ ও পুষ্টিমান প্রায় তাজা ফলের মতোই অটুট থাকে। তবে সমস্যা হলো টেক্সচার বা গঠন নিয়ে। হিমায়িত ফল গলে গেলে বা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসলে তা কিছুটা নরম ও থকথকে হয়ে যায়। তাই স্মুদি তৈরি, রান্নাবান্না কিংবা বেকিংয়ের ক্ষেত্রে এই ধরনের ফল চমৎকার কাজ করে, যেখানে ফলের শক্ত গঠন খুব একটা জরুরি নয়।
বাজারের সেরা ৫টি ফ্রোজেন ফল
কিছু ফল আছে যা তাজা অবস্থার চেয়ে ফ্রোজেন অবস্থায় কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বেরি জাতীয় ফল: স্ট্রবেরি বা ব্লুবেরির মতো ফলগুলোর সেরা স্বাদের স্থায়িত্ব খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে। অথচ ফ্রোজেন বেরিগুলো যখন পেকে রসে টলমল করে, ঠিক তখনই সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে এগুলোর স্বাদ ও পুষ্টিমান অটুট থাকে এবং দামেও সাশ্রয়ী হয়। গলে গেলে যেহেতু এগুলো নরম হয়ে যায়, তাই স্মুদি, ডেজার্ট বা টপিং হিসেবে এগুলো আদর্শ। এছাড়া আধা-বরফ অবস্থায় এগুলো স্ন্যাকস হিসেবেও বেশ উপভোগ্য।
আসানি বা অ্যাসাই বেরি: মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার এই ছোট বেগুনি রঙের ফলটি পুষ্টির ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার এবং ভালো মানের ফ্যাট। বাংলাদেশে বা যুক্তরাষ্ট্রে এই ফল তাজা অবস্থায় পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই স্মুদি বা অ্যাসাই বোলের জন্য ফ্রোজেন প্যাকেটই একমাত্র ভরসা।
মিষ্টি কালো জাম বা চেরি: চেরি ফলের মৌসুম বসন্তের শেষ থেকে গ্রীষ্মের শুরু পর্যন্ত খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে। কিন্তু সুপারশপের ফ্রিজার সেকশনে সারা বছরই ডার্ক সুইট চেরি পাওয়া যায়। স্মুদি, ফলের কবলার বা ডেজার্ট তৈরিতে এটি দারুণ। খাওয়ার আগে বাটিতে কিছুক্ষণ রেখে দিলে এটি নরম ও রসালো হয়ে ওঠে। তবে প্রক্রিয়াজাতকরণের পরেও মাঝে মাঝে বিচি থেকে যেতে পারে, তাই খাওয়ার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।
ড্রাগন ফল: উজ্জ্বল গোলাপি বা হলুদ রঙের অদ্ভুতদর্শন এই ফলটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এবং ক্যালরির পরিমাণ বেশ কম। তাজা ড্রাগন ফলের দাম সচরাচর অনেক বেশি থাকে। সেক্ষেত্রে ফ্রোজেন ড্রাগন ফল কেনা বেশ অর্থনৈতিক। এটি স্মুদি বা ফলের বাটিতে ব্যবহারের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে, ফলে কাটার ঝামেলাও থাকে না।
আমের টুকরো: বাজার থেকে আম কিনে তার সঠিক পরিপক্বতা বোঝা অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া আম ছিলে স্লাইস করাও অনেকের কাছে ঝামেলার মনে হয়। এখানেই ফ্রোজেন আমের সুবিধা। এগুলো একদম ঠিকঠাক পাকা অবস্থায় সংগ্রহ করে খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করে প্যাকেটজাত করা হয়। স্মুদি ছাড়াও সালসা, চাটনি, আইসক্রিম বা শরবত তৈরিতে এই ফ্রোজেন আম সহজেই ব্যবহার করা যায়।