ক্রিকেট দুনিয়ার হালচাল: অশ্বিনের তোপে টিম ইন্ডিয়া, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা আফগানিস্তানের

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ভারতের শোচনীয় পরাজয় ক্রিকেট মহলে রীতিমতো আলোড়ন ফেলেছে। এই হারের পর টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তার মতে, গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বাধীন ম্যানেজমেন্ট এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের দুটো মারাত্মক ভুলের কারণেই ভারতকে এই মাশুল গুনতে হয়েছে। প্রথমত, অক্ষর প্যাটেলকে প্রথম একাদশে না রাখা এবং দ্বিতীয়ত, রিঙ্কু সিংকে আট নম্বরে ব্যাট করতে পাঠানো সম্পূর্ণ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল বলে মনে করেন এই বর্ষীয়ান স্পিনার।

অক্ষরের অভাব ও অশ্বিনের যুক্তি

আইপিএলে বিপক্ষ দলের ব্যাটারদের কথা মাথায় রেখে ‘ম্যাচ-আপ’ বা কৌশলগত পরিবর্তন করাটা কাজে দিলেও, আইসিসির মতো বড় টুর্নামেন্টে দল যতটা স্থিতিশীল রাখা যায় ততই মঙ্গল। বাঁহাতি ব্যাটারদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন সুন্দরকে খেলানোর যুক্তি অশ্বিন মেনে নিলেও, অক্ষর প্যাটেলের মতো দলের একজন অত্যন্ত মূল্যবান খেলোয়াড়কে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত তিনি মানতে পারেননি। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেই বিরাট কোহলির সাথে অক্ষরের ৭২ রানের সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপের কথা ভুলে গেলে চলবে না। সেবার রান তাড়া করতে নেমে কোহলির অভিজ্ঞতা ভারতকে ভরসা দিলেও, অক্ষরের অবদান কোনো অংশে কম ছিল না। রবিবারের ম্যাচেও ভারত যদি মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট ধরে রেখে একটু স্থিতিশীলতা দেখাতে পারত, তবে ম্যাচের ফলাফল হয়তো অন্যরকম হতো।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির লক্ষ্যে আফগান ব্রিগেড

একদিকে যখন ভারতীয় দলের বিশ্বকাপ অভিযান নিয়ে চলছে জোর কাঁটাছেঁড়া, অন্যদিকে তখন আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য কোমর বাঁধতে শুরু করেছে আফগানিস্তান। আগামী ফেব্রুয়ারিতে হতে চলা এই মেগা ইভেন্টের জন্য রবিবার ১২ জানুয়ারি ১৫ সদস্যের শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। আইসিসি টুর্নামেন্টে রশিদ খানের দল গত কয়েক বছর ধরেই দারুণ ছন্দে রয়েছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তাদের চমকপ্রদ উত্থান তারই প্রমাণ দেয়। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামতে মরিয়া তারা।

মুজিব বাদ, ফিরলেন ইব্রাহিম

তবে ঘোষিত এই দলে জায়গা হয়নি রহস্য স্পিনার মুজিব-উর-রহমানের। তার অভাব পূরণ করতে দলে ডাক পেয়েছেন আরেক স্পিনার আল্লাহ মোহাম্মদ গাজানফার। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে শেষ ওয়ানডে সিরিজের দলে মুজিব থাকলেও তাকে প্রথম একাদশে খেলানো হয়নি, আর এবার তো মূল স্কোয়াড থেকেই তিনি বাদ পড়লেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি তার শেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন। অন্যদিকে, দলে ফিরেছেন নির্ভরযোগ্য ব্যাটার ইব্রাহিম জাদরান। গত জুনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে শেষবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। ৩৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৫টি সেঞ্চুরি সহ ১৪৪০ রান করা ইব্রাহিম এই সংস্করণে তার শেষ ম্যাচটি খেলেন গত মার্চে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আফগানিস্তান দল

হাশমতউল্লাহ শাহিদি (অধিনায়ক), ইব্রাহিম জাদরান, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, সেদিকউল্লাহ আতাল, রহমত শাহ, ইকরাম আলিখিল, গুলবাদিন নাইব, আজমাতউল্লাহ ওমারজাই, মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, আল্লাহ মোহাম্মদ গাজানফার, নুর আহমাদ, ফজলহক ফারুকি, ফারিদ মালিক এবং নাভিদ জাদরান।