বিনোদনের খবরাখবর: ছোট পর্দায় টিআরপি লড়াই আর বড় পর্দায় দুই মহারথীর প্রত্যাবর্তন

বিনোদনের খবরাখবর: ছোট পর্দায় টিআরপি লড়াই আর বড় পর্দায় দুই মহারথীর প্রত্যাবর্তন

টিআরপি তালিকায় বাজিমাত চলতি সপ্তাহের টিআরপি তালিকা ঠিক সময়েই চলে এসেছে, আর এসেই দর্শকদের বেশ চমকে দিয়েছে। আসলে এই সপ্তাহে হিসেবনিকেশ সব আবার পালটে গেছে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে প্রথম স্থান দখলের জন্য। কখনও ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’ শীর্ষস্থান দখল করছে, তো আবার কখনও এগিয়ে যাচ্ছে ‘পরশুরাম আজকের নায়ক’। তবে এবার সব গল্পকে পিছনে ফেলে সেরার মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে পরশুরাম ও তটিনীর কাহিনি। আগের সপ্তাহে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই যেন পাশা উলটে গেল। একটা সময় টানা প্রথম স্থানে ছিল এই ধারাবাহিক। মাঝে একটু এদিক-ওদিক হলেও ফের তারাই এক নম্বর। তাদের প্রাপ্ত নম্বর ৭.৩। ঠিক ঘাড়ের কাছে নিশ্বাস ফেলছে ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’, ৭.১ নম্বর পেয়ে তারা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে, প্রথম পাঁচের মধ্যে থাকলেও ক্রমশ যেন একটু পিছিয়ে পড়ছে ‘পরিণীতা’। আগের চেয়ে নম্বর বেশ কিছুটা কমেছে, ৬.৯ পেয়ে এ সপ্তাহে তাদের স্থান তৃতীয়। সম্প্রতি একটি বিশেষ দৃশ্য নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’ ধারাবাহিকের। এত বিতর্কের পরেও তারা কিন্তু নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে। ৬.৬ নম্বর নিয়ে এই গল্প রয়েছে চতুর্থ স্থানে। আর পঞ্চম স্থানে এবার যুগ্ম বিজয়ী। ‘ও মোর দরদিয়া’ এবং ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’—দুটি ধারাবাহিকই ৬.৫ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থানে নিজেদের জায়গা পাকা করেছে।

n

সেলুলয়েডে ফিরছে নস্টালজিয়া ছোট পর্দার এই রেষারেষির মাঝেই বড় পর্দায় একটি ঐতিহাসিক কামব্যাকের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর এক ফ্রেমে ফিরছেন তামিল সিনেমার দুই মহীরুহ কমল হাসান এবং রজনীকান্ত। নেলসন দীলিপকুমারের পরিচালনায় এই ছবির সাময়িক নাম রাখা হয়েছে ‘কেএইচ এক্স আরকে’। দর্শকদের উন্মাদনা এখন থেকেই তুঙ্গে। এই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ছবির চিত্রগ্রহণ সংক্রান্ত একটি খবর। ট্যুরিং টকিজ চ্যানেলের রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্মাতারা এই পুরো ছবিটি প্রথাগত ফিল্ম ক্যামেরায় শুট করার কথা ভাবছেন। আটের বা নয়ের দশকে এই ধরনের ক্যামেরারই চল ছিল। নেলসন এবং চিত্রগ্রাহক রাজীব মেনন ছবির প্রমোটাও এই পুরোনো পদ্ধতিতেই শুট করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সময়ের অভাবে শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়। মূল ছবির শুটিংয়ের সময় তাঁরা এই পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়িত করতে মরিয়া।

n

এআই জল্পনার অবসান ও নেপথ্যের গল্প ছবির প্রস্তুতি নিয়ে ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুরকার অনিরুদ্ধ রবিচন্দ্রন বেশ কিছু মজাদার তথ্য শেয়ার করেছেন। তাঁর মতে, আগামী বছর হয়তো ছবির শুটিং ফ্লোরে গড়াবে। এটা নিয়ে ইতিমধ্যেই চারদিকে বেশ শোরগোল পড়ে গেছে। সাধারণত এই দুই মেগাস্টারের জন্য তিনি আগে বেশ কিছু হাই-এনার্জি ট্র্যাক তৈরি করেছেন। এবার চেনা ছক ভাঙতে চাইছেন তিনি। ছবির রেট্রো আবহের সঙ্গে মানানসই একটা নস্টালজিক সুরের দিকেই ঝুঁকছেন অনিরুদ্ধ। এদিকে ছবির প্রোমো রিলিজ হওয়ার পর তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। দুই কিংবদন্তি অভিনেতাকে প্রোমোতে দেখে আনন্দে আত্মহারা ভক্তরা। তবে এর মাঝেই হঠাৎ রটে যায় এক অদ্ভুত গুজব। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করতে শুরু করেন যে, প্রোমোতে দেখানো অভিনেতা থেকে শুরু করে ব্যাকগ্রাউন্ডের মডেল—সবাই নাকি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই দিয়ে তৈরি। এই জল্পনায় জল ঢালতে প্রোডাকশন হাউসের তরফ থেকে তড়িঘড়ি একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, রজনীকান্ত এবং কমল হাসান দিব্যি ক্যামেরার সামনে অভিনয় করছেন, আর তাঁদের পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন নেলসন ও অনিরুদ্ধ। যাঁদের ডিজিটাল বলে দাবি করা হচ্ছিল, সেই ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টিস্টরাও সেখানে স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছেন। ভিডিওর শেষে দেখা যায়, শট শেষ হওয়ার পর দুই পুরোনো বন্ধু একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন। নির্মাতারা ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, লাইটস, ক্যামেরা, অ্যাকশন, প্রোমোর নেপথ্যের এক ঝলক। এই ভিডিও সামনে আসার পর সব বিতর্কের অবসান ঘটেছে, আর এটা প্রমাণিত যে প্রোমোতে কোনো এআই ব্যবহার করা হয়নি।